ঢাকা    বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
Bangla Lead

সীমান্তে ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তে ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া তাদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় অনেকেই দুই দেশের সীমান্তবর্তী ‘জিরো লাইনে’ আটকা পড়ছেন।বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বিএসএফের অন্তত ২১টি পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, সীমান্তে আটকে পড়া পরিবারগুলোর মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর ভাষায়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা বা সীমান্তে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংস্থাটি কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে, যারা দাবি করেছেন যে রাতের বেলায় বিভিন্ন দলকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে বিজিবির বাধার মুখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।[TECHTARANGA-POST:161]পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী ও শিশুসহ একাধিক পরিবার দীর্ঘ সময় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যাদের কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, অবৈধ অভিবাসন রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, প্রচলিত কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া সীমান্তে কাউকে ঠেলে দেওয়া হলে তাদের গ্রহণ করা হবে না। নাগরিকত্ব যাচাই এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যাবাসন পদ্ধতি অনুসরণ করেই যেকোনো প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে সরকার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সীমান্তে ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ