‘মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের জোরালো অবস্থান প্রশংসনীয়’
মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবীদের প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করার ঘটনা নিয়ে চলমান সমালোচনার বিষয়ে নিজের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি ইশরাক হোসেনের আপসহীন মাদকবিরোধী দৃঢ় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আরও সতর্ক ও সংবেদনশীল থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে এ বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন রাশেদ খান।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইশরাক হোসেন একজন তরুণ ও উদীয়মান রাজনৈতিক নেতৃত্ব। রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সারাদেশের নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করে তিনি আজ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপূর্ণ আসনে আসীন হয়েছেন। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি সবসময় হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করেন এবং যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁকে সবসময় প্রবল উদ্দীপনা ও সাহসের সঙ্গে সোচ্চার হতে দেখা গেছে।মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে মাদকসেবীদের সম্ভাব্য আক্রমণের মুখে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে নিজের লাইসেন্সকৃত পিস্তল বের করার ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইশরাক হোসেন এসব সমালোচনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় পরিস্থিতিতে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করবেন।মাদকাসক্তদের আচরণগত ঝুঁকি ও নিরাপত্তার দিকটি ব্যাখ্যা করে রাশেদ খান বলেন, নেশার ঘোরে থাকা ব্যক্তিরা প্রায়শই জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও চিনতে পারেন না। মারাত্মক মাদকাসক্তির প্রভাবে তারা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস ঘটনা বা প্রাণঘাতী অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে।তবে তিনি মনে করেন, একজন জনপ্রতিনিধির মূল শক্তি হওয়া উচিত সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতামূলক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। এতে মাদকের বিস্তার রোধে টেকসই সামাজিক প্রতিরোধ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।ইশরাক হোসেনের ব্যাখ্যার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ঘটনার দিন ইশরাক মাদকসেবীদের আটক করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করছিলেন। তারা যেন পালিয়ে যেতে বা আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্যই তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।দেশের সামগ্রিক মাদক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাশেদ খান আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাদকবিরোধী অভিযানে নানা দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে মাদকের অভিশাপ রুখতে সাধারণ জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন।