সৌদিকে রক্ষায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে দেশটিতে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের চূড়ান্ত অনুমোদনে দেশটির রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) সর্বাধুনিক ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমানগুলো সৌদির আকাশসীমা সার্বক্ষণিক পাহারায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের এই সামরিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, সৌদি আরবে মোতায়েন করা এই টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক ও আকাশ নজরদারির ভূমিকা পালন করবে। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো হুতিদের ওপর কোনো ধরনের সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করবে না; বরং সৌদি আরবের প্রধান প্রধান জনবহুল শহর এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংবেদনশীল জ্বালানি অবকাঠামোকে হুতিদের উড়ন্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন থেকে রক্ষা করাই হবে এদের মূল দায়িত্ব। এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের সুবিধার্থে একটি বিশেষ পরিবহন বিমান ও কারিগরি সহায়তার জন্য সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর পাশাপাশি সৌদি যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহের (এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং) চলমান চুক্তির মেয়াদ আরও ৯০ দিন বৃদ্ধি করেছে লন্ডন।সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় কৌশলগত তেল স্থাপনাগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণাত্মক তৎপরতা চরম রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘায়িত সামরিক অস্থিরতা যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে ভেঙে দিতে না পারে এবং উপসাগরীয় কৌশলগত মিত্রদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাজ্য এই বড় সামরিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করল।