আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেন? মমতাকে আটকের পর মোদিকে তোপ তৃণমূলের
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) একাধিক সংসদ সদস্যকে পুলিশ কর্তৃক আটকে রাখার ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশি পদক্ষেপের পরপরই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চেয়েছে—গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার আসলে ঠিক কী নিয়ে এতটা ভয় পাচ্ছে।দিল্লির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, ভারতে আজ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীন মতপ্রকাশের মৌলিক সাংবিধানিক সুযোগ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিরোধীদের যেকোনো যৌক্তিক প্রতিবাদ ও কণ্ঠ রুখতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক যন্ত্রকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। টিএমসি নেতাদের মতে, বিরোধীদের শান্ত সমাবেশকে দমন করার এই অপচেষ্টা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও গভীর ভীতিরই প্রকাশ।আটকের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রেপ্তার বা প্রশাসনিক ভীতি প্রদর্শন করে জনগণের অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক লড়াই থামানো যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের যেকোনো অগণতান্ত্রিক ও একপেশে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা। বিরোধী দলগুলোর দাবি, ভিন্নমতকে এভাবে দমন করার মানসিকতা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সার্বিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল ও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের রাজধানীতে সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতিকে অহেতুক ঘোলাটে করার অভিযোগ নাকচ করে তারা দাবি করেছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং অনুমোদনহীন জমায়েতের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এক নতুন সংঘাতের রূপ নিল।সূত্র: এএনআই