গাজার ২ লাখের বেশি ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল
ইসরায়েলের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজা উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনের কারণে গাজা উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি উপত্যকার মোট ভবনের প্রায় ৮২ শতাংশ।সংস্থাটি জানিয়েছে, এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।পিসিবিএস জানিয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থার অবকাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত পানি ও বর্জ্যপানি অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, গাজার ৮২ শতাংশ পরিবার পানির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। আর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু মাত্র প্রায় ৬ লিটার বা ১.৬ গ্যালন পানি পাচ্ছেন।২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি ইসরায়েল গাজায় চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আশ্রয় সামগ্রী এবং পূর্বনির্মিত ঘর প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে। পিসিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন, যাদের মধ্যে ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত।পিসিবিএস জানিয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরেও বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলা ও বাড়িঘর ধ্বংস অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি দখলদারদের হামলা, ভূমি দখল এবং বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে। গাজায় কলোনি স্থাপন ও প্রাচীর প্রতিরোধ কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩৪১টি ধ্বংস অভিযান চালিয়েছে।এসব অভিযানে ৭৪০টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া অনুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২৫৪টি স্থাপনা ধ্বংসের নোটিশ জারি করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও দখলদাররা পশ্চিম তীরে হামলা আরও জোরদার করেছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে হত্যা, গ্রেপ্তার, বাস্তুচ্যুতি, বাড়িঘর ধ্বংস, ভূমি সমতল করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ।