ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

তিন বছর পর দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাণিজ্য বৈঠক শুরু

দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক গতিশীল করতে এবং আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ভারতের নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ ও ভারত। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ও আগামীকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুই দিনব্যাপী ১৬তম বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বিদ্যমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সচল রাখা, স্থলবন্দরের বাধা কমানো এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে এ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লির এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায়।এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশি জুট ইয়ার্ন, হেসিয়ান ফেব্রিক ও জুট স্যাকের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় সুতা আমদানিতে বাংলাদেশের বিধিনিষেধ এবং বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে দুপক্ষ নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০.৯৬ বিলিয়ন ডলার, যার বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার—ফলে বাণিজ্য ঘাটতির ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯.২১ বিলিয়ন ডলার। এ কারণে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা অপসারণ, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে ঢাকা।এ ছাড়া দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে এ বৈঠকে।

তিন বছর পর দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাণিজ্য বৈঠক শুরু