হ্যাটট্রিকের পর মেসিকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস
আটকানো গেল না লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপের মঞ্চে অবশেষে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে তিন গোলের মাইলফলকে পৌঁছে যান এই জাদুকর, আর তাতেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যাবধানে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর উচ্ছ্বাসে ভাসে সমগ্র বিশ্বের আর্জেন্টিনা শিবির।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা আর্জেন্টিনা একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিল। এর মধ্যে প্রথম দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মেসির, যার মধ্যে ছিল দূরপাল্লার শট ও বক্সের ভেতর থেকে সুযোগসন্ধানী ফিনিশ।
৭৬তম মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে পাওয়া সুযোগে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান মেসি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর। মাঠজুড়ে শুরু হয় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাস, সতীর্থরাও ছুটে যান অধিনায়কের দিকে।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন মেসি। একই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালে ১৬। যা জার্মানির কিংবদন্তী খেলোয়াড় মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু রেকর্ড গড়া এই তারকার জন্য এটি আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।
এর আগে ম্যাচের ১৬ মিনিটে প্রথম গোল ও ৬০ মিনিটে গোল দেন যাদুকর মেসি।
আলজেরিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মেসির হ্যাটট্রিকের পর আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরো দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখে ব্যবধান ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে আবারো প্রমাণ করলেন মেসি—বড় মঞ্চে তিনি এখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নামগুলোর একটি। আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার মিশনে এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে বড় শক্তি জোগাবে।