ঢাকা    বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
Bangla Lead

প্রতিহিংসা নয়, দেশের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তার ভাষায়, অতীতের ক্ষতি প্রতিশোধের মাধ্যমে পূরণ হবে না, বরং দেশের জন্য কী করা যায়, সেই চিন্তা নিয়েই সামনে এগোতে হবে।মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তরুণ প্রজন্ম, মাদক সমস্যা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:159]নিজের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে। এখনো সেই নির্যাতনের শারীরিক প্রভাব অনুভব করেন বলেও জানান তিনি। তবে এ নিয়ে কাউকে দায়ী করে প্রতিশোধের পথে হাঁটতে চান না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, তার সঙ্গে যা ঘটেছে, প্রতিশোধ নিলে সেটি ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই প্রতিহিংসার মানসিকতা বাদ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করার মনোভাব তৈরি করতে হবে। এই বার্তা নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান তিনি।গণমাধ্যম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে, গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া দরকার।১৬ জুনকে সংবাদপত্র জগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় এই দিনেই দেশে অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং সংবাদপত্রের ওপর থেকে নানা ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেন। দেশের কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার একা সবকিছু করতে পারবে না। কোথায় কাজ ভালো হচ্ছে, কোথায় ভুল হচ্ছে, তা বুঝতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা দরকার। সাংবাদিকরা সহযোগিতা করলে সরকারের কাজ আরও সহজ হবে।তরুণ প্রজন্মের মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক এখন দেশের তরুণদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু গ্রেপ্তার, চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তরুণদের শক্তিকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগাতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞানচর্চা ও বিতর্কের মতো কার্যক্রম বাড়াতে হবে।তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক শক্তিকে সঠিক পথে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। অথচ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠের সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ওপর জোর দেন তিনি।সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্কুল পর্যায় থেকেই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।দায়িত্ব পালনে চাপ অনুভব করছেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি, আর দেশের সমস্যাও কম নয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করতে গিয়ে তিনি বড় ধরনের চাপ অনুভব করছেন। তবে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিহিংসা নয়, দেশের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর