ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে স্বৈরাচারের গুলিতে শহীদ কিংবা আহত হওয়ার মুহূর্তে কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই কিংবা গণতন্ত্র রক্ষার কোনো আন্দোলনেই সহযোদ্ধাদের ধর্ম বিবেচনা করা হয়নি। রক্ত দিয়ে কেনা এই স্বাধীন দেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু বলে কোনো বিভাজন থাকতে পারে না; সবার একমাত্র ও অভিন্ন পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সংবিধানে প্রত্যেকের অধিকার সম্পূর্ণ সমান। তিনি বলেন, “বেশিদিন আগের কথা নয়, এই তো দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের ঘটনা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে এই দেশের ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। সারা দেশে লাখ লাখ মানুষ যখন নেমে এসেছিল, স্বৈরাচার যখন নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, তখন কিন্তু আমরা কেউ জিজ্ঞেস করিনি গুলিবিদ্ধ হওয়া মানুষটি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিস্টান। স্বৈরাচারের গুলিতে শহীদ ও আহত প্রত্যেকেই ছিলেন আমাদের ভাই।”নাগরিক সমতার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধর্ম প্রতিটি মানুষের নিজস্ব বিশ্বাসের বিষয়, তবে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় এক ও অভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই দেশের আইন প্রধানমন্ত্রীর জন্য যেভাবে প্রযোজ্য, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনার জন্যও ঠিক সেভাবেই প্রযোজ্য। এই রাষ্ট্রের সম্পদে আপনার যতটুকু অধিকার, আমারও ততটুকুই অধিকার। রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, আমাকেও তাই দেবে।” মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী