‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই’
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক শিক্ষক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তখন তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার আইনে সার্বক্ষণিক লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে এবং এমপিও নীতিমালার আলোকে শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যতদিন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কোনো বাধা নেই।সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘জাতীয়করণ’-এর প্রতিও একাত্মতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান নিশ্চিত করতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সময়ের দাবি। এ জন্য বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। মানবিক ও সুশৃঙ্খল উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি তুলে ধরার জন্য শিক্ষকদের পরামর্শ দেন তিনি।সরকারের শিক্ষা সংস্কার ও আর্থিক সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষকের বকেয়া অবসর ভাতা পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে ও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের পাশাপাশি ছুটির দিনে উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ শিক্ষক নেতারা বক্তব্য দেন।