ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

ভূমিকম্পের আগেই বাজবে মসজিদের মাইক, নতুন উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে মসজিদের মাইক ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পে ভূমিকম্প শনাক্ত হওয়ার পর আজানের জন্য ব্যবহৃত মাইক দিয়ে সতর্কসংকেত দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই করা হবে।জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ প্রতিরোধ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ইনোউ হিরোশির নেতৃত্বে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। লক্ষ্য, জাপানের মতো কার্যকর ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।ইনোউর মতে, ইন্দোনেশিয়ার প্রায় প্রতিটি জনপদেই মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদে আগে থেকেই মাইক স্থাপন করা আছে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়। ফলে নতুন অবকাঠামো তৈরি না করেই বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।প্রায় দুই দশক আগে সুমাত্রায় ভয়াবহ ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণার সময় এ ধারণা আসে ইনোউর। ২০০৯ সালে পশ্চিম সুমাত্রায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তাঁর মতে, কম্পন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেও মানুষ সতর্ক হতে পারলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব।ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক লাখ মসজিদ রয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে কয়েকটি মসজিদের মাইক ভূমিকম্প শনাক্তকারী সেন্সর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।গবেষকদের মতে, কার্যকর আগাম সতর্কবার্তার জন্য দ্রুত সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা যেমন দরকার, তেমনি সেটি সচল রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফোননির্ভর সতর্কবার্তা ব্যাহত হতে পারে। বিপরীতে, মসজিদের মাইক স্থানীয়ভাবে পরিচালিত হওয়ায় এগুলো বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজে আসতে পারে।ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার জ্যেষ্ঠ গবেষক আন্দি একা সাকিয়া বলেন, প্রকল্পটি সফল হলে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বড় অগ্রগতি হতে পারে। তবে এখনো এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কসংকেত প্রচার শুরু হয়নি।গবেষকদের হিসাবে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের কোনো এলাকায় কম্পন পৌঁছানোর আগে মাত্র পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় পাওয়া যেতে পারে। তাই এই অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রকল্পটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলবে। মসজিদের পাশাপাশি স্কুলের মাইক, রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়ার সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।ইন্দোনেশিয়া ও জাপান দুটিই প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। তাই ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুই দেশেই আগাম সতর্কতা ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ভূমিকম্পের আগেই বাজবে মসজিদের মাইক, নতুন উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়