ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজার খুলতে আলোচনা

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে নিরাপদ ও বৈধভাবে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার ঠেকানো এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইইউর অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের ঢাকা সফরের বিষয়টি ইউরোপীয় কমিশনের ক্যালেন্ডারেও রয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জালিয়াতি ঠেকাতে শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিতে কিউআর কোড যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে পাঠানোর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যাতে বৈধ চ্যানেলে সহজে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইউরোপে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং মেধাপাচারকে মেধার আদান-প্রদান বা ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপ দেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার ঠেকানোর পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণে ইইউ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ও ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়।ইইউ কমিশনারের বাংলাদেশ সফরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অভিবাসনবিষয়ক বৈঠক করছেন। ইইউর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে বৈধ শ্রম-অভিবাসন বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার মোকাবিলাকে সফরের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজার খুলতে আলোচনা