ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ২৯ দেশের নিন্দা
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনায় ইরানের কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেশটির নিন্দা জানিয়েছে ২৯টি দেশ। যৌথ বিবৃতিতে ইরানের হয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।সোমবার, ১২ অক্টোবর প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ২৯ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের বিরুদ্ধে সহিংস হামলা, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, সাইবার হামলা এবং অন্যান্য গোপন তৎপরতার অভিযোগ তোলেন। বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ২৭ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মূল্যায়নের সঙ্গে তারা একমত। তাদের মতে, ঘটনাটি দেশের বাইরে গোপন নেটওয়ার্ক ও সহযোগী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বা আইআরজিসির তৎপরতার সক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনেছে।আরএএফ ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের পর সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কা থেকেই বিমানগুলো সরানো হয়েছিল। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ভূখণ্ডে ইরানের হয়ে সরাসরি কিংবা সহযোগী গোষ্ঠীর মাধ্যমে মানুষকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, ক্ষতি করা বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।ইরানের হয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে তাদের শনাক্ত, তদন্ত, প্রতিহত ও বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে ২৯ দেশ। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের কথাও জানিয়েছে তারা।এদিকে ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী মুসাভি ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিযোগটি ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।যুক্তরাজ্য অবশ্য এ ঘটনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলবের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের হয়ে বিদেশে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি শুধু একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের একাধিক দেশ ইরানের কথিত বিদেশি তৎপরতা নিয়ে সমন্বিত অবস্থান নিয়েছে। তবে ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখনো তেহরান প্রত্যাখ্যান করছে এবং তদন্তের ফলই এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণের ভিত্তি হবে।সূত্র: শাফাক নিউজ