অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের বাগান থেকে জলপাই সংগ্রহের অনুমতি দিয়ে চরমপন্থি ইহুদি ধর্মগুরু রাব্বি ডভ লিওরের দেওয়া একটি ফতোয়া ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জমিটি ঐতিহাসিকভাবে ইহুদিদের এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিরা জমিতে না পৌঁছাতে পারায় তারা ফসলের মালিকানা ত্যাগ করেছেন—এমন যুক্তি দেখিয়ে ফসল তুলে নেওয়াকে ‘ভূমি বিজয়’-এর ধর্মীয় নির্দেশ হিসেবে দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর এ বক্তব্যকে ইসলাম ও মানবাধিকারের পাশাপাশি মূলধারার ইহুদি ধর্মীয় আইনেরও পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে তা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করার ডাক দিয়েছেন ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় স্কলার ও রাব্বিরা।
‘অর টোরাহ স্টোন’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও রোশ ইয়েশিভা রাব্বি কেনেথ ব্র্যান্ডার এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। ইহুদি ধর্মীয় বিধিমালার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও আইনি দলিল তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ভূখণ্ডের প্রতি জাতীয় বা ধর্মীয় অনুভূতি থাকলেই তা সেখানকার অ-ইহুদি বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেয় না। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার কারণে কোনো কৃষক যদি নিজের গাছে পৌঁছাতে না পারেন, তার অর্থ এই নয় যে তিনি তাঁর ফসলের ওপর দাবি ছেড়ে দিয়েছেন।
একই সঙ্গে গুশ এতজিয়ন অঞ্চলের রাব্বি এবং মধ্যপন্থি ‘তজোহার রাব্বিনিক্যাল সংস্থা’ লিওরের এই বিতর্কিত ফতোয়ার তীব্র বিরোধিতা করে ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতের পক্ষে রায় দিয়েছে।
ধর্মীয় স্কলারদের মতে, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য জলপাইয়ের মৌসুম কেবল একটি সময় নয়, বরং সারা বছরের প্রধান জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন। সেখানে ঐশ্বরিক অধিকারের দোহাই দিয়ে অন্যের ঘাম ঝরানো ফসল লুটে নেওয়াকে প্রকাশ্য চুরির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বাইবেলে বর্ণিত আব্রাহাম ও লোটের রাখালদের বিরোধের দৃষ্টান্ত টেনে ব্র্যান্ডার মনে করিয়ে দেন, প্রতিশ্রুত ভূমির কথা বলে অন্যের জমিতে জোরজবরদস্তি করাকে স্বয়ং আব্রাহামও তিরস্কার করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তার নামে যদি সামরিক বাহিনী কৃষকদের জমিতে প্রবেশ সীমিতও করে, তবে সেই জমির অবশিষ্ট ফসল সংরক্ষণ এবং চুরি ঠেকানোর আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব ইসরায়েলি প্রশাসনের ওপরই বর্তায়। ধর্মকে ঢাল বানিয়ে অন্যের জীবিকা হরণ করার এই প্রবণতা বন্ধ না হলে তা যেমন তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনবে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরে দখলদারিত্বের সংকটকে আরও জটিল করবে। ফলে ডভ লিওরের ফতোয়া অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও ফসল সুরক্ষার জোর দাবি উঠেছে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট