ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

মার্কিন আধিপত্যের কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: আব্বাস আরাগচি



মার্কিন আধিপত্যের কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: আব্বাস আরাগচি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মার্কিন আধিপত্য ও আগ্রাসী চাপের মুখে ইরান কখনো নতি স্বীকার বা আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে তার পুরোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইরাকি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক ‘আল-আখবারিয়া’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রকৃত কারণ ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্যকে মেনে না নেওয়া। তাঁর দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধ মূলত এই মূল বিরোধকে আড়াল করার একটি বাহানা বা অজুহাত মাত্র। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে এমন কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, যারা তাদের নির্দেশিত নীতির বিরোধিতা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আচরণের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করে আরাগচি বলেন, ইতিপূর্বে তিন দফা আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছিল ইরান। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনার আড়ালে সুযোগ বুঝে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে। গত বছরের জুন মাস এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সমন্বিত হামলার উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, যখন আক্রমণ চলছিল তখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা সচল ছিল। এছাড়া গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে মার্কিন প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেন এই শীর্ষ কূটনীতিক।

তবে কূটনৈতিক চ্যানেল পুরোপুরি ভেঙে পড়া রোধ করতে ইরান সাত দিনের একটি নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে ইরান বর্তমানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল সীমিত ও বন্ধ রেখেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে অতীতে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে এবং তার সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের স্থায়ী চুক্তির জন্য পরবর্তী আলোচনা শুরু হতে পারে। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, সংকট নিরসনের পুরো বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

ট্যাগ : আব্বাস আরাগচি

Bangla Lead

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


মার্কিন আধিপত্যের কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: আব্বাস আরাগচি

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মার্কিন আধিপত্য ও আগ্রাসী চাপের মুখে ইরান কখনো নতি স্বীকার বা আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে তার পুরোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইরাকি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক ‘আল-আখবারিয়া’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রকৃত কারণ ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্যকে মেনে না নেওয়া। তাঁর দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধ মূলত এই মূল বিরোধকে আড়াল করার একটি বাহানা বা অজুহাত মাত্র। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে এমন কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, যারা তাদের নির্দেশিত নীতির বিরোধিতা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আচরণের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করে আরাগচি বলেন, ইতিপূর্বে তিন দফা আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছিল ইরান। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনার আড়ালে সুযোগ বুঝে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে। গত বছরের জুন মাস এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সমন্বিত হামলার উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, যখন আক্রমণ চলছিল তখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা সচল ছিল। এছাড়া গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে মার্কিন প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেন এই শীর্ষ কূটনীতিক।

তবে কূটনৈতিক চ্যানেল পুরোপুরি ভেঙে পড়া রোধ করতে ইরান সাত দিনের একটি নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে ইরান বর্তমানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল সীমিত ও বন্ধ রেখেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে অতীতে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে এবং তার সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের স্থায়ী চুক্তির জন্য পরবর্তী আলোচনা শুরু হতে পারে। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, সংকট নিরসনের পুরো বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড