ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন জানাতে সরাসরি অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিদেশি নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে অবস্থান না নিয়ে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) দিকেই তাঁর মনোযোগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিবদ্ধ রাখতে চান। সোমবার বিশিষ্ট সাংবাদিক মার্ক হ্যালপেরিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে এ কারণে যে, এর ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পক্ষে জোরালো সমর্থন ঘোষণা করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমি তাঁর (নেতানিয়াহু) পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছি না, আবার বিপক্ষেও যাচ্ছি না। আমি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে নিজেকে জড়াচ্ছি না। আমি মূলত আমেরিকান প্রার্থীদের সমর্থন করি এবং আমার পুরো মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে।” কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সমর্থনের বিরুদ্ধে দলের ভেতর গড়ে ওঠা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’পন্থী একাংশের অসন্তোষকেই কৌশলে প্রতিফলিত করছেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক প্রভাব মার্কিন ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক চাপ ফেলায় এই মনোভাব আরও জোরদার হয়েছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিগত ও বর্তমান উভয় মেয়াদেই নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মৈত্রী বজায় রেখেছেন। প্রথম মেয়াদে তেল আবিব থেকে দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর, গোলান মালভূমিতে দখলদারিত্বের স্বীকৃতি এবং ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেন তিনি। পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পরও ইসরায়েলের অনুকূলে নানা কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুরু থেকেই ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বিরোধিতার সময়ও তিনি নেতানিয়াহু সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে জাতীয় নিরাপত্তার সব সমস্যার সমাধান টানা অসম্ভব।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে ব্যালট বাক্সে বাড়তি কোনো সুবিধা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের সর্বশেষ জনমত জরিপগুলো দেখাচ্ছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়ে বিরোধী দল ‘ইয়াশার পার্টি’ জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতা এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইসেনকোট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সব বিরোধী দলকে নিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের বিপরীতে খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই উদাসীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেতানিয়াহুর জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।