দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ও সহিংস বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে কারফিউর মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রাজধানী প্যারিস ও গুরুত্বপূর্ণ শহর লিওঁতে আগে থেকেই কার্যকর থাকা কারফিউর সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বন্দরনগরী মার্সেইয়ে প্রথমবারের মতো কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া তুলুজ শহরেও নতুন করে সান্ধ্যকালীন কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ইনফোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্যারিস ও লিওঁ শহরে সান্ধ্যকালীন কারফিউর সময়সীমা বাড়ানো হয়। প্যারিস পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকা এবং লে আল জেলার কিছু অংশে মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে পরদিন বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। একই সঙ্গে রাজধানীর স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অননুমোদিত যেকোনো ধরনের জনসমাগমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার তালিকায় রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভবন এলিসি প্রাসাদের চারপাশ, জাতীয় পরিষদ, সিনেট, শঁজেলিজে অ্যাভিনিউ, শাতলে ও প্রধান প্রধান প্রধান রেলস্টেশনগুলো।
লিওঁ শহরের কেন্দ্রস্থলে কারফিউ বাড়িয়ে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে এবং জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সন্ধ্যা ৬টার বদলে বিকেল ৪টা থেকেই বহাল করা হয়েছে। অন্যদিকে উপকূলীয় শহর মার্সেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়াঁ শহরের কেন্দ্রীয় অংশে অপ্রাপ্তবয়স্কদের (নাবালকদের) জন্য নির্দিষ্ট সময়ের কারফিউ ঘোষণা করেছেন, যা মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী কয়েক দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া তুলুজ শহরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্দো ও নিস শহরেও পূর্বঘোষিত সান্ধ্য আইন বহাল রয়েছে।
অস্থির এই পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ফ্রান্সের পেশাদার ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষ আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লিগ-২-এর মন্টপেলিয়ে বনাম প্যারিসের রেড স্টার ম্যাচটি স্থগিত করে সোমবার পুনর্নির্ধারণ করেছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বড় আকারের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন ১১০টি পৃথক কর্মসূচিতে দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে কেবল প্যারিসেই উপস্থিত ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেদিন সারা দেশ থেকে প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।