ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

শর্ত মানলে ৭ দিনেই খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে ই'রান



শর্ত মানলে ৭ দিনেই খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে ই'রান
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জ্বালানি তেল পরিবহনের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রস্তাব এখনও বহাল রেখেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলপথটি খুলে দেওয়ার পথ স্পষ্ট, তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পুরোপুরি মেনে নিতে হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আয়োজিত একটি ধর্মীয় সংগঠনের সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে মাত্র সাত দিনের নোটিসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়ার যে প্রস্তাব তেহরান দিয়েছিল, তা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে দুই পক্ষের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইরান এই বিশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরেছিল। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন তাদের আনুষ্ঠানিক মতামত জানালেও মূল দাবিগুলো না মানায় আলোচনা থমকে রয়েছে বলে ইরানের নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ইরাকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্বাস আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি বিন্দুমাত্র সততা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করে, তবে এই জলপথ পুনরায় চালু করা সম্পূর্ণ সম্ভব। ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে কিছু মতামত পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে ইরানের নীতিনির্ধারকরা খতিয়ে দেখছেন।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান তিনটি প্রধান শর্ত নির্ধারণ করেছে— ১. ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে সমস্ত মার্কিন অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. ইরানের আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে। ৩. সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে সব ধরনের সামরিক সংঘাত ও অভিযান বন্ধ করতে হবে।

আরাগচি আরও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব শর্ত মেনে নেয়, তবে মাত্র ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত ও নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা সম্ভব এবং সপ্তম দিনে দুই দেশ আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে বসতে পারে।

তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমাণবিক ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, যেকোনো আলোচনার টেবিলে বসার পূর্বশর্ত হিসেবে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সক্ষমতা সীমিত করতে হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আট মাস ধরে চলা এই বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে হলে তেহরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে হবে।

এর বিপরীতে তেহরানের অবস্থান অনড়। তাদের যুক্তি—আগে হরমুজ প্রণালি খুলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে, পারমাণবিক বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে কথা বলা যেতে পারে। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে।

সূত্র: রয়টার্স 

ট্যাগ : হরমুজ প্রণালি ২০২৬ আব্বাস আরাগচি

Bangla Lead

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


শর্ত মানলে ৭ দিনেই খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে ই'রান

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জ্বালানি তেল পরিবহনের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রস্তাব এখনও বহাল রেখেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলপথটি খুলে দেওয়ার পথ স্পষ্ট, তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পুরোপুরি মেনে নিতে হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আয়োজিত একটি ধর্মীয় সংগঠনের সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে মাত্র সাত দিনের নোটিসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়ার যে প্রস্তাব তেহরান দিয়েছিল, তা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে দুই পক্ষের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইরান এই বিশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরেছিল। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন তাদের আনুষ্ঠানিক মতামত জানালেও মূল দাবিগুলো না মানায় আলোচনা থমকে রয়েছে বলে ইরানের নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ইরাকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্বাস আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি বিন্দুমাত্র সততা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করে, তবে এই জলপথ পুনরায় চালু করা সম্পূর্ণ সম্ভব। ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে কিছু মতামত পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে ইরানের নীতিনির্ধারকরা খতিয়ে দেখছেন।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান তিনটি প্রধান শর্ত নির্ধারণ করেছে— ১. ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে সমস্ত মার্কিন অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. ইরানের আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে। ৩. সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে সব ধরনের সামরিক সংঘাত ও অভিযান বন্ধ করতে হবে।

আরাগচি আরও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব শর্ত মেনে নেয়, তবে মাত্র ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত ও নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা সম্ভব এবং সপ্তম দিনে দুই দেশ আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে বসতে পারে।

তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমাণবিক ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, যেকোনো আলোচনার টেবিলে বসার পূর্বশর্ত হিসেবে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সক্ষমতা সীমিত করতে হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আট মাস ধরে চলা এই বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে হলে তেহরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে হবে।

এর বিপরীতে তেহরানের অবস্থান অনড়। তাদের যুক্তি—আগে হরমুজ প্রণালি খুলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে, পারমাণবিক বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে কথা বলা যেতে পারে। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে।

সূত্র: রয়টার্স 


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড