রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কারোপের চরম ঝুঁকিতে থাকা ভারত ও চীনসহ শীর্ষ ক্রেতা দেশগুলো সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় এসব কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে নিজ নির্বাহী ক্ষমতাবলে তা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত এক বিশেষ নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার্থেই’ এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি এতদ্বারা গ্রাহাম অ্যাক্টে উল্লিখিত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্কের প্রয়োগ স্থগিত করছি। আমি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করেছি যে, এই মুহূর্তে এমন ছাড় প্রদান করা খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে।’ তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্দেশনায় শুল্ক কার্যকর করা কেবল সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে; ট্রাম্প চাইলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় নির্বাহী আদেশে এগুলো পুনরায় বহাল করতে পারবেন।
কংগ্রেসে পাস হওয়া এই কঠোর আইনটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’। আইনটির নামকরণ করা হয় ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামানুসারে, যিনি কিয়েভ সফর থেকে ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই চলতি বছরের জুলাই মাসে মারা যান।
আইনটি অনুসারে, রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা—চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান—থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ৩০ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে রাশিয়ার আর্থিক ও জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের বিধান রাখা হয়। এই আইনের এক মাসের সময়সীমা আগামী ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক ব্যয়ের আর্থিক উৎস বন্ধ করার লক্ষ্যেই মার্কিন কংগ্রেস আইনটি প্রণয়ন করেছিল। আইনটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হলে ভারত, চীনসহ বিশ্বের প্রায় ১০টি দেশ তীব্র ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংকটে পড়ত। তবে ট্রাম্পের এই স্থগিতাদেশের ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজার ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাৎক্ষণিক বাণিজ্যিক সংঘাতের হাত থেকে আপাতত রক্ষা পেল।
সূত্র: এনডিটিভি