ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

কক্সবাজারে রিসোর্টে আ'গুন: নি'হত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত



কক্সবাজারে রিসোর্টে আ'গুন: নি'হত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় পর্যটকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার চার নারী, চুয়াডাঙ্গার এক নারী ও পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আগুনে দগ্ধ আরও পাঁচ পর্যটককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি ওই পর্যটন রিসোর্টে এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত পর্যটকরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। অন্য দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং তাঁর পরিবারের পাঁচ বছর বয়সি শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।

অগ্নিকাণ্ডে আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীনরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, দগ্ধ পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তাঁদের জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অপর এক ব্যক্তি ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আঘাত পেলে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশবান্ধব শৈলীতে কাঠের তৈরি নয়টি কক্ষের ওই রিসোর্টটিতে শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকরা চেকআউট করে চলে যান। শনিবার সকালে বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার সময় কয়েকজন প্রাতর্ভ্রমণে বাইরে বের হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রথমে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেন এবং পরবর্তীতে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম ও সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে রিসোর্টে উপস্থিত সবার তালিকা মিলিয়ে দেখতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বিশেষ দল তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ : কক্সবাজার রিসোর্টে আগুন উখিয়া অগ্নিকাণ্ড

Bangla Lead

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


কক্সবাজারে রিসোর্টে আ'গুন: নি'হত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় পর্যটকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার চার নারী, চুয়াডাঙ্গার এক নারী ও পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আগুনে দগ্ধ আরও পাঁচ পর্যটককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি ওই পর্যটন রিসোর্টে এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত পর্যটকরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। অন্য দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং তাঁর পরিবারের পাঁচ বছর বয়সি শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।

অগ্নিকাণ্ডে আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসাধীনরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, দগ্ধ পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তাঁদের জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অপর এক ব্যক্তি ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আঘাত পেলে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশবান্ধব শৈলীতে কাঠের তৈরি নয়টি কক্ষের ওই রিসোর্টটিতে শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকরা চেকআউট করে চলে যান। শনিবার সকালে বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার সময় কয়েকজন প্রাতর্ভ্রমণে বাইরে বের হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রথমে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেন এবং পরবর্তীতে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম ও সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে রিসোর্টে উপস্থিত সবার তালিকা মিলিয়ে দেখতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বিশেষ দল তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড