কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ভারতীয় অংশে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ করে আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন এবং কনস্টেবল (কং/২১৬৬) রোহিত দেওয়ান।
সীমান্তে আয়োজিত এই পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) শশীদল বিওপির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম (এএসসি) এবং শশীদল বিওপি কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন। পুলিশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহিন এবং ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। অন্যদিকে বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার এলাকায় মাদকবিরোধী গোপন অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে চিহ্নিত এক মাদক কারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ভুলবশত সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। এ সময় স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকরা তাঁকে আটক করে বিএসএফের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে কনস্টেবল রোহিতকে উদ্ধার করতে সেখানে গেলে এএসআই মো. ইমরান হোসেনও আটক হন।
বিষয়টি জানার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। উভয় বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের মধ্য দিয়ে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।