সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তিনি কখনো ভুলবেন না।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে হুথিদের ‘খুবই খারাপ আচরণের’ জন্য অভিযুক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক অভিযানের পর হুথিরা শিক্ষা নিয়েছে বলে তিনি ভেবেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর গোষ্ঠীটি আবারও সৌদি আরবে হামলা শুরু করেছে।
হুথিদের এই পুনরুত্থানের পেছনে ইরানের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের ইন্ধনেই হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
তবে হুথিদের হামলার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে, এমন কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অবশ্য সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে সরবরাহ-ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নেই এবং অর্থনীতি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের মূল্যস্ফীতি ৩০১ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইরানে গড় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্পের উল্লেখ করা ৩০১ শতাংশের সঙ্গে আইএমএফের হিসাবের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
একইভাবে, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নেই, এই দাবিও সঠিক নয়। ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর নৌ ও বিমান শাখা রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যের এই অংশকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই সৌদি আরবে হুথিদের হামলা নিয়ে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোও এখন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৩ অক্টোবর দহরানে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনেও হামলা হয়, যাতে আগুন লাগলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টের শেষ অংশে আরও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী নন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনের পরও তিনি ক্ষমতায় থাকবেন এবং হুথিদের কর্মকাণ্ড ভুলবেন না।
তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ট্রাম্প ৩১২টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছিলেন, আর কমলা হ্যারিস পেয়েছিলেন ২২৬টি। জনপ্রিয় ভোটে ট্রাম্পের ব্যবধান ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। তাই ‘বিশাল ব্যবধানে জয়’ কথাটি তাঁর রাজনৈতিক বর্ণনা, আনুষ্ঠানিক ফলের পরিসংখ্যান নয়।
এর আগে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে প্রায় সাত সপ্তাহের সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। পরে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হুথিরা তখন সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছিল এবং আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছিল।
এখন সৌদি আরবে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর তাঁর ‘নির্বাচনের পরও আমি থাকব’ মন্তব্যটি ভবিষ্যতে নতুন মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।