ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের বড় আঘাত



সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের বড় আঘাত
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরবের তেলশিল্পের কেন্দ্রস্থলে এবার সরাসরি আঘাত। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে হামলার পর ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হননি। তবে রয়টার্সের এক কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সের একটি অফিস টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং ভবনটির ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

হামলার দায় সরাসরি স্বীকারের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে একই সময়ে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে সতর্ক করেছিলেন। এর আগে সানার একটি তেল স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সেখানে হামলা চালায়।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাহরানে আরামকোর স্থাপনায় আঘাতের ঘটনা ঘটায় পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। আরামকোর সদর দপ্তর সৌদি আরবের তেলশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পরিচালনাকেন্দ্র।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, মঙ্গলবার রিয়াদ ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় হুথিদের ছোড়া একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে টানা হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও প্রাণহানি হয়েছে। শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন আরেক হামলায় আরও একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এসব ঘটনার পর বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। 

সৌদি আরবের জন্য নতুন এই হামলার গুরুত্ব শুধু নিরাপত্তার জায়গায় নয়, অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বড়। আরামকো দেশটির তেল উৎপাদন, পরিশোধন ও রপ্তানি অবকাঠামোর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। ফলে এর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীও ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা জোরদার করেছে। সানার আল-সাবাহ তেল স্থাপনা এবং রাস ঈসা বন্দরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি জোটের দাবি, এসব স্থাপনা হুথিরা সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণে ব্যবহার করছিল।

অর্থাৎ, পাল্টাপাল্টি হামলা এখন শুধু সামরিক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও সংঘাতের সরাসরি লক্ষ্য হয়ে উঠছে। এতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : সৌদি আরব

Bangla Lead

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের বড় আঘাত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের তেলশিল্পের কেন্দ্রস্থলে এবার সরাসরি আঘাত। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে হামলার পর ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হননি। তবে রয়টার্সের এক কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সের একটি অফিস টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং ভবনটির ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

হামলার দায় সরাসরি স্বীকারের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে একই সময়ে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে সতর্ক করেছিলেন। এর আগে সানার একটি তেল স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সেখানে হামলা চালায়।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাহরানে আরামকোর স্থাপনায় আঘাতের ঘটনা ঘটায় পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। আরামকোর সদর দপ্তর সৌদি আরবের তেলশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পরিচালনাকেন্দ্র।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, মঙ্গলবার রিয়াদ ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় হুথিদের ছোড়া একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে টানা হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও প্রাণহানি হয়েছে। শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন আরেক হামলায় আরও একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এসব ঘটনার পর বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। 

সৌদি আরবের জন্য নতুন এই হামলার গুরুত্ব শুধু নিরাপত্তার জায়গায় নয়, অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বড়। আরামকো দেশটির তেল উৎপাদন, পরিশোধন ও রপ্তানি অবকাঠামোর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। ফলে এর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীও ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা জোরদার করেছে। সানার আল-সাবাহ তেল স্থাপনা এবং রাস ঈসা বন্দরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি জোটের দাবি, এসব স্থাপনা হুথিরা সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণে ব্যবহার করছিল।

অর্থাৎ, পাল্টাপাল্টি হামলা এখন শুধু সামরিক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও সংঘাতের সরাসরি লক্ষ্য হয়ে উঠছে। এতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড