রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় চাপ। সব মিলিয়ে সৌদি আরব এখন বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে। আর এর প্রভাব পড়ছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে নেওয়া দেশটির অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ওপরও।
শনিবার, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় প্রথমে ১২ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছায়। পরদিনও একই বিমানবন্দরে নতুন হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
এই ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাংকার-সুবিধাসহ কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন প্রাসাদে অবস্থান পরিবর্তন করছেন। প্রতিবেদনে সৌদি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তার নিরাপত্তায় বিশেষ একটি দল নিয়োজিত রয়েছে।
তবে যুবরাজের অবস্থান পরিবর্তনের এই তথ্যটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই এটিকে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, বরং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কর্মকর্তাদের তথ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামলার প্রভাব শুধু নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। রিয়াদের বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও পরিবর্তনের কারণে সৌদির আন্তর্জাতিক যোগাযোগেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হুথিদের হুমকিতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়লে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ পরিকল্পনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে। তেলনির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, বিনিয়োগ ও নতুন শিল্পখাত গড়ে তোলার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা যুবরাজ নিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট সেটিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
আরেকটি বড় উদ্বেগ সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, একসঙ্গে বড় এলাকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। এ কারণে কৌশলগত স্থাপনার মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তর করতে হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদির বিরুদ্ধে হুথিদের হামলার পর ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর ফলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
সৌদি আরবের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই হামলার জবাব দিতে গিয়ে তারা কতটা সামরিকভাবে এগোবে এবং একই সঙ্গে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশপথ কতটা নিরাপদ রাখতে পারবে।
কারণ রিয়াদের ওপর হামলা শুধু একটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়। এটি সৌদির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল