ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধী দলগুলোর সুপ্রিম কোর্টমুখী পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নিজেদের অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরতে চাইছেন বিরোধীরা।
নিরাপত্তার কারণে সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্যাটেল চক, জনপথ, রাজীব চক, মাণ্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও বারাখাম্বা রোড মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়। তবে এসব স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যান চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে চলতি মাসজুড়েই বিরোধী দল, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ চলছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এর ফলে বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিরোধীদের অভিযোগ, এর রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে ক্ষমতাসীন বিজেপি।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের দাবি, দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং অযোগ্য বা ভুয়া ভোটারদের তথ্য বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সপ্তাহান্তের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিরোধী নেতারা পুলিশের বিরুদ্ধে গণআটক ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলেছেন। কয়েকজন সাংবাদিকও বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় আটকের অভিযোগ করেছেন। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স জানিয়েছে, অন্তত ১৬ সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল।
রাহুল গান্ধী সমর্থকদের সুপ্রিম কোর্টমুখী পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, এই আন্দোলন শুধু ভোটার তালিকার বিষয় নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপিও। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন রাজপথ ছাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও চলাচলে বিধিনিষেধও পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করছে।
সূত্র: আলজাজিরা