ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান আটক



সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান আটক
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ভারতের বেকার তরুণদের ব্যঙ্গ করে দেওয়া মন্তব্যের জবাবে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা অভিজিৎ দীপকে এবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক ও বেকারত্ব ইস্যুতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আন্দোলনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। খবর রয়টার্সের।

৩১ বছর বয়সী দীপকের সঙ্গে সিজেপির আরও দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে পুলিশের মুখোমুখি হয়ে দীপকে বলছেন, ‘আমি গ্রেফতার হতে এসেছি, গ্রেফতার করুন। আপনাদের ভয় পাই না।’ পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে, এটি আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার নয় বরং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁর সাময়িক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া দীপকে মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের জেরে প্রথম জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন তোলেন। আদালতে বেকার তরুণদের রূপকার্থে ‘তেলাপোকা’ বলা হলে দীপকে ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা একসঙ্গে হলে কী হবে?’ তাঁর এই আহ্বান দ্রুত তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

এর আগে চলতি বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর স্বার্থে তাঁদের সংগঠিত আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা মোদি মন্ত্রিসভায় একটি নজিরবিহীন ঘটনা ছিল। এরপর থেকে তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার দাবিতে এটি বড় চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সম্প্রতি খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায় সংগঠনটি। নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, দ্বৈত এন্ট্রি ও যাচাইয়ের কারণে এ সংখ্যা তৈরি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দুই কর্মকর্তার ডিজিটাল প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তির তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার দিল্লির কেন্দ্রস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : অভিজিৎ দীপকে আটক

Bangla Lead

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান আটক

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের বেকার তরুণদের ব্যঙ্গ করে দেওয়া মন্তব্যের জবাবে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা অভিজিৎ দীপকে এবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক ও বেকারত্ব ইস্যুতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আন্দোলনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। খবর রয়টার্সের।

৩১ বছর বয়সী দীপকের সঙ্গে সিজেপির আরও দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে পুলিশের মুখোমুখি হয়ে দীপকে বলছেন, ‘আমি গ্রেফতার হতে এসেছি, গ্রেফতার করুন। আপনাদের ভয় পাই না।’ পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে, এটি আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার নয় বরং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁর সাময়িক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া দীপকে মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের জেরে প্রথম জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন তোলেন। আদালতে বেকার তরুণদের রূপকার্থে ‘তেলাপোকা’ বলা হলে দীপকে ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা একসঙ্গে হলে কী হবে?’ তাঁর এই আহ্বান দ্রুত তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

এর আগে চলতি বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর স্বার্থে তাঁদের সংগঠিত আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা মোদি মন্ত্রিসভায় একটি নজিরবিহীন ঘটনা ছিল। এরপর থেকে তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার দাবিতে এটি বড় চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সম্প্রতি খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায় সংগঠনটি। নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, দ্বৈত এন্ট্রি ও যাচাইয়ের কারণে এ সংখ্যা তৈরি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দুই কর্মকর্তার ডিজিটাল প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তির তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার দিল্লির কেন্দ্রস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড