ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়া আস্থার বড় বাধা: মুশফিকুল



 হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়া আস্থার বড় বাধা: মুশফিকুল
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে এ দেশের মানুষের মনোভাব উপলব্ধি করতে হবে এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বই আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারার লেখা গ্রন্থ ‘উইন্ডস অব চেঞ্জ: জিওপলিটিক্স অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অব সাউথ অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ শীর্ষক বইটি নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, কোনো একক ব্যক্তি বা বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয় প্রতিবেশী দেশের সাধারণ জনগণের সঙ্গে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের মানুষ স্বাধীনতা, মর্যাদা ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের প্রত্যাশায় এ পরিবর্তন এনেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য নিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ভারত ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। তবে নিজ দেশের জনগণের স্বার্থে যেকোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার বাংলাদেশের থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান এবং দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরোম সি. গ্লেন। গ্লোবাল ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান নির্বাহী প্যাটি মরিসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক গবেষক ও কূটনীতিকরা অংশ নেন।

মাইকেল কুগেলম্যান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট শিবিরে যোগ না দিয়ে বরং পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে জেরোম সি. গ্লেন বিশ্বরাজনীতিতে এক পক্ষের লাভকে অন্য পক্ষের ক্ষতি হিসেবে দেখার ‘জিরো-সাম’ মানসিকতা পরিহার করে গঠনমূলক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ট্যাগ : মুশফিকুল ফজল আনসারী

Bangla Lead

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়া আস্থার বড় বাধা: মুশফিকুল

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে এ দেশের মানুষের মনোভাব উপলব্ধি করতে হবে এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বই আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারার লেখা গ্রন্থ ‘উইন্ডস অব চেঞ্জ: জিওপলিটিক্স অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অব সাউথ অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ শীর্ষক বইটি নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, কোনো একক ব্যক্তি বা বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয় প্রতিবেশী দেশের সাধারণ জনগণের সঙ্গে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের মানুষ স্বাধীনতা, মর্যাদা ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের প্রত্যাশায় এ পরিবর্তন এনেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য নিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ভারত ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। তবে নিজ দেশের জনগণের স্বার্থে যেকোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার বাংলাদেশের থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান এবং দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরোম সি. গ্লেন। গ্লোবাল ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান নির্বাহী প্যাটি মরিসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক গবেষক ও কূটনীতিকরা অংশ নেন।

মাইকেল কুগেলম্যান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট শিবিরে যোগ না দিয়ে বরং পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে জেরোম সি. গ্লেন বিশ্বরাজনীতিতে এক পক্ষের লাভকে অন্য পক্ষের ক্ষতি হিসেবে দেখার ‘জিরো-সাম’ মানসিকতা পরিহার করে গঠনমূলক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড