ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

জম্মু-কাশ্মীর থেকে কথিত ৩০০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু



জম্মু-কাশ্মীর থেকে কথিত ৩০০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় প্রায় ৩০০ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিবিসি নিউজ উর্দুর এক প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মু অঞ্চলে প্রায় ৬০০ অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে কড়া নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রায় ৩০০ জনকে দুটি পৃথক দলে ভাগ করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের (BSF) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অবৈধ অভিবাসীদের অবস্থানের ফলে বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলে স্থানীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয়পত্রহীন এই ব্যক্তিদের সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। কাশ্মীরি সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশি জানান, আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হলো ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি, যা অনুযায়ী কাউকে এমন পরিস্থিতিতে ফেরত পাঠানো যায় না যেখানে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাছাড়া, ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে স্পষ্ট করেছে যে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ভূখণ্ডে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশির জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকতে হবে।

ট্যাগ : জম্মু কাশ্মীর বাংলাদেশি অভিবাসী

Bangla Lead

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


জম্মু-কাশ্মীর থেকে কথিত ৩০০ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় প্রায় ৩০০ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিবিসি নিউজ উর্দুর এক প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মু অঞ্চলে প্রায় ৬০০ অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে কড়া নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রায় ৩০০ জনকে দুটি পৃথক দলে ভাগ করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের (BSF) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অবৈধ অভিবাসীদের অবস্থানের ফলে বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলে স্থানীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয়পত্রহীন এই ব্যক্তিদের সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। কাশ্মীরি সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশি জানান, আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হলো ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি, যা অনুযায়ী কাউকে এমন পরিস্থিতিতে ফেরত পাঠানো যায় না যেখানে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাছাড়া, ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে স্পষ্ট করেছে যে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ভূখণ্ডে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশির জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকতে হবে।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড