রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রত্যেক মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আগামীকাল সোমবার ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ পালিত হবে। এ উপলক্ষে রোববার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দিবসটির কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নগর কেবল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া মানুষের বসবাসের জায়গা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শহরগুলো এখন কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। ফলে পরিকল্পিত এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নগরাঞ্চলকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপের পাশাপাশি যানজট, পরিবেশদূষণ এবং পর্যাপ্ত ও মানসম্মত আবাসনের ঘাটতির মতো নানা সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিরাপদ, পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী, দূষণমুক্ত এবং মর্যাদাপূর্ণ আবাসন মানুষের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভূমির মূল্য বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশে আবাসন সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই সংকট আরও তীব্র।
তিনি বলেন, সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা শুধু নাগরিক কল্যাণের বিষয় নয়, এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নেরও অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই মানুষের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাসযোগ্য, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়ন এবং সব শ্রেণির মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আবাসন কর্মসূচি গ্রহণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরি, নিরাপদ ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ প্রয়োগ, ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, স্মার্ট ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার জন্য নেওয়া পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নাগরিক সেবা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সবার জন্য আবাসন ও বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করার এই কাজে শুধু সরকার নয়, সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, গবেষক এবং তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দায়িত্বশীল নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের শহরাঞ্চলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি বাসযোগ্য, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা যাবে।
‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেশে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্যও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।