ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

‘বিএনপিকেও পালিয়ে যেতে হবে’, সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহারের মন্তব্য



‘বিএনপিকেও পালিয়ে যেতে হবে’, সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহারের মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন, সহযোগী সদস্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আখতারুজ্জামান ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করেছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ উন্নয়ন ফোরাম গঠিত হয়েছে।

রংপুর বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি দেশের আপত্তির কারণে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে না।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও পালিয়ে যেতে হবে। কারণ দেশের জনগণ জুলুম-অত্যাচার আর সহ্য করবে না। চাঁদাবাজির কারণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।’ অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণে দেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকার এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে।

রংপুর বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে এ অঞ্চল বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। শুধু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সমান বরাদ্দ দিলে এ বৈষম্য দূর হবে না। পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ বরাদ্দ ও পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগে গ্যাস সরবরাহ চালু, দ্রুতগতির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা, রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আধুনিকায়ন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবি জানান এটিএম আজহারুল ইসলাম। পাশাপাশি বিভাগের জেলা শহরগুলোকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, নদীভাঙন ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কঠিন শিলার চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন সীমিত। দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ তৈরি হবে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একইভাবে রংপুর বিভাগের রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর উৎপাদন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়েও বক্তব্য দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কোনো রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খান, জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : এটিএম আজহারুল ইসলাম আখতারুজ্জামান

Bangla Lead

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


‘বিএনপিকেও পালিয়ে যেতে হবে’, সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহারের মন্তব্য

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন, সহযোগী সদস্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আখতারুজ্জামান ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করেছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ উন্নয়ন ফোরাম গঠিত হয়েছে।

রংপুর বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি দেশের আপত্তির কারণে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে না।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও পালিয়ে যেতে হবে। কারণ দেশের জনগণ জুলুম-অত্যাচার আর সহ্য করবে না। চাঁদাবাজির কারণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।’ অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণে দেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকার এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে।

রংপুর বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে এ অঞ্চল বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। শুধু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সমান বরাদ্দ দিলে এ বৈষম্য দূর হবে না। পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ বরাদ্দ ও পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগে গ্যাস সরবরাহ চালু, দ্রুতগতির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা, রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আধুনিকায়ন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবি জানান এটিএম আজহারুল ইসলাম। পাশাপাশি বিভাগের জেলা শহরগুলোকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, নদীভাঙন ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কঠিন শিলার চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন সীমিত। দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ তৈরি হবে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একইভাবে রংপুর বিভাগের রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর উৎপাদন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়েও বক্তব্য দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কোনো রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খান, জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড