ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

নান্দাইলে মক্তবে ৯ বছরের শিশুকে জামায়াত আমিরের যৌন নিপীড়ন



নান্দাইলে মক্তবে ৯ বছরের শিশুকে জামায়াত আমিরের যৌন নিপীড়ন
ফলো করুন

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মক্তব ছুটির পর ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে মসজিদের ভেতরে আটকে রেখে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে বেলাল মুন্সি (৫৫) নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের সংগ্রামখেলি গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

ঘটনার তিন দিন পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়। তবে এ সময় তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকালে সংগ্রামখেলি গ্রামের একটি মসজিদে প্রতিদিনের মতো প্রায় ৩০ জন শিশু আরবি পড়তে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে সকালের মক্তবে শিশুদের পড়াতেন বেলাল মুন্সি।

অভিযোগ রয়েছে, পড়া শেষে অন্য শিশুদের ছুটি দেওয়া হলেও ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে মসজিদে রেখে দেওয়া হয়। অন্যরা চলে যাওয়ার পর মসজিদের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে কাছে ডেকে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, সে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি চিৎকারের চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সে সেখান থেকে বের হয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়।

বাড়িতে ফিরে কান্নারত অবস্থায় শিশুটি তার মাকে ঘটনার কথা জানায়। পরে তার মা স্থানীয় মাতবরদের বিষয়টি অবহিত করেন।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদের ওপর চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিন দিন পার হলেও তারা কোনো সুষ্ঠু বিচার পাননি বলে দাবি করেছেন।

বুধবার স্থানীয় লোকজন দলবদ্ধ হয়ে বেলাল মুন্সির বাড়িতে তাকে খুঁজতে যান। তবে এর আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেলাল মুন্সি। তার দাবি, ঘটনার দিন তিনি শিশুটিকে নিজের মোবাইল ফোনে একটি নম্বর প্রবেশ করাতে বলেছিলেন। সেটি করতে না পারায় তাকে একটি চড় দেন। এরপর শিশুটি রাগ করে বাড়িতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বেলাল মুন্সি বলেন, নিজের জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি এলাকা ছেড়েছেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Bangla Lead

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নান্দাইলে মক্তবে ৯ বছরের শিশুকে জামায়াত আমিরের যৌন নিপীড়ন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মক্তব ছুটির পর ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে মসজিদের ভেতরে আটকে রেখে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে বেলাল মুন্সি (৫৫) নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের সংগ্রামখেলি গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

ঘটনার তিন দিন পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়। তবে এ সময় তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকালে সংগ্রামখেলি গ্রামের একটি মসজিদে প্রতিদিনের মতো প্রায় ৩০ জন শিশু আরবি পড়তে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে সকালের মক্তবে শিশুদের পড়াতেন বেলাল মুন্সি।

অভিযোগ রয়েছে, পড়া শেষে অন্য শিশুদের ছুটি দেওয়া হলেও ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে মসজিদে রেখে দেওয়া হয়। অন্যরা চলে যাওয়ার পর মসজিদের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে কাছে ডেকে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, সে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি চিৎকারের চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সে সেখান থেকে বের হয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়।

বাড়িতে ফিরে কান্নারত অবস্থায় শিশুটি তার মাকে ঘটনার কথা জানায়। পরে তার মা স্থানীয় মাতবরদের বিষয়টি অবহিত করেন।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদের ওপর চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিন দিন পার হলেও তারা কোনো সুষ্ঠু বিচার পাননি বলে দাবি করেছেন।

বুধবার স্থানীয় লোকজন দলবদ্ধ হয়ে বেলাল মুন্সির বাড়িতে তাকে খুঁজতে যান। তবে এর আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেলাল মুন্সি। তার দাবি, ঘটনার দিন তিনি শিশুটিকে নিজের মোবাইল ফোনে একটি নম্বর প্রবেশ করাতে বলেছিলেন। সেটি করতে না পারায় তাকে একটি চড় দেন। এরপর শিশুটি রাগ করে বাড়িতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বেলাল মুন্সি বলেন, নিজের জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি এলাকা ছেড়েছেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড