গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের জাতীয় সম্মাননার পরিধি ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
আজ দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার শুরুতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ মাত্র ১২ জন শিক্ষককে দেওয়া হতো। তবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মোট ১০০ জন কৃতি শিক্ষককে এই সম্মাননার আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পেতেন মাত্র ১২ জন শিক্ষক। তবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সর্বমোট ১০০ জন কৃতি শিক্ষককে এই সম্মাননার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।’
আগামী ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ঘোষিত ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
এবারের সম্মাননার আওতায় শিক্ষার বিভিন্ন স্তর ও ধারার শিক্ষকরা থাকছেন। সম্মাননা নির্বাচনের পরিধি তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা—এই তিন ধারার শিক্ষকদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি কলেজ, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্র থেকেও গুণী শিক্ষকদের নির্বাচিত করা হয়েছে। এসব বিশেষায়িত ক্ষেত্রের মধ্যে চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি রয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, এসব ক্ষেত্র থেকে গুণী শিক্ষকদের নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন না; নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের বীজও বপন করেন। এর মাধ্যমে তারা একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি বিনির্মাণে ভূমিকা রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আধুনিক ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নে শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং টেকসই শিক্ষা নীতি গ্রহণ সরকারে অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান মাহ্দী আমিন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল ও মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন।