সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা ইপিজেড ও বলিভদ্র এলাকায় ফুটপাত থেকে হকারদের সরানোকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনার পর হকাররা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। হকারদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আনসার সদস্যরা তাঁদের ওপর হামলা করেছেন। অন্যদিকে আনসার কর্তৃপক্ষের দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে হকাররাই সদস্যদের ওপর হামলা করেন।
স্থানীয় হকাররা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে ফুটপাতে পণ্য বিক্রি করছেন। সম্প্রতি ঢাকা ইপিজেডে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা সেখানে ব্যবসা করতে বাধা দিচ্ছিলেন। পথচারীদের চলাচলের জায়গা রেখে বসতে চাইলেও রোববার তাঁদের জোর করে সরানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
হকারদের ভাষ্য, সরিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আরও আনসার সদস্য ঘটনাস্থলে এসে লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে দেন। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এ হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে দুই নারীসহ অন্তত ১৫ হকার আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মানবকণ্ঠের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই নারীসহ চারজন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। আহতের মোট সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা জানা গেছে।
সংঘর্ষের পর ক্ষুব্ধ হকাররা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। অবরোধের কারণে ওই পথে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে হকারদের চাঁদাবাজির অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ।
হকারদের উচ্ছেদ বা সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ওসি। তাঁর দাবি, ওই অভিযানের জন্য আনসার সদস্যদের এমন অনুমোদন ছিল না।
তরিকুল ইসলাম আরও জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় প্রশাসন অভিযান চালিয়েছিল। পরে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে হকারদের শৃঙ্খলা মেনে বসার মৌখিক অনুমতি দিয়েছিল বেপজা প্রশাসন।
অন্যদিকে আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল বিকেলে যুগান্তরকে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইপিজেড এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদের পরও হকাররা আবার সড়ক ও ফুটপাতে বসেন।
তাঁর দাবি, নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় রোববার হকারদের সরাতে গেলে তাঁরা আনসার সদস্যদের ওপর হামলা করেন।