ঢাকা    শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
Bangla Lead

যৌথ উদ্যোগে হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস’ তৈরি করছে ভারত-রাশিয়া


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬

যৌথ উদ্যোগে হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস’ তৈরি করছে ভারত-রাশিয়া
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ক্ষেপণাস্ত্রটির ছোট আকারের ও হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। তার ভাষ্য, এই উদ্যোগ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী হামলা চালানোর সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বুধবার (১৭ জুন) ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ডেনিস আলিপভ বলেন, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সম্ভাবনা অত্যন্ত ব্যাপক। স্থলভাগ, নৌবাহিনী, সাবমেরিন ও আকাশপথ থেকে উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক পরীক্ষার পর ভারত কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি শক্তিশালী ‘ট্রায়াড’ গড়ে তুলেছে, যা বিশ্বের দ্রুততম ও নির্ভরযোগ্য প্রিসিশন স্ট্রাইক সিস্টেমগুলোর অন্যতম।

তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মস যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতের ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আদর্শ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রচলিত ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের পরিবর্তে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে দুই দেশ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরবর্তীতে এই ধারণাই ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠানে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন রুশ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ব্রহ্মস প্রকল্প ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ভারতে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাংক এবং সম্প্রতি একে-২০৩ রাইফেল উৎপাদনের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে আলিপভ জানান, সুখোই-৫৭ প্ল্যাটফর্মের ভিত্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদনের মতো উদ্যোগ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এশিয়া-প্যাসিফিক, পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিন্দূর’-এ ব্রহ্মসের দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: দি ইকোনমিক টাইমস।

ট্যাগ : ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, ভারত, রাশিয়া, হাইপারসনিক অস্ত্র,

Bangla Lead

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


যৌথ উদ্যোগে হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস’ তৈরি করছে ভারত-রাশিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ক্ষেপণাস্ত্রটির ছোট আকারের ও হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। তার ভাষ্য, এই উদ্যোগ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী হামলা চালানোর সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বুধবার (১৭ জুন) ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ডেনিস আলিপভ বলেন, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সম্ভাবনা অত্যন্ত ব্যাপক। স্থলভাগ, নৌবাহিনী, সাবমেরিন ও আকাশপথ থেকে উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক পরীক্ষার পর ভারত কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি শক্তিশালী ‘ট্রায়াড’ গড়ে তুলেছে, যা বিশ্বের দ্রুততম ও নির্ভরযোগ্য প্রিসিশন স্ট্রাইক সিস্টেমগুলোর অন্যতম।

তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মস যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতের ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আদর্শ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রচলিত ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের পরিবর্তে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে দুই দেশ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরবর্তীতে এই ধারণাই ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠানে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন রুশ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ব্রহ্মস প্রকল্প ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ভারতে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাংক এবং সম্প্রতি একে-২০৩ রাইফেল উৎপাদনের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে আলিপভ জানান, সুখোই-৫৭ প্ল্যাটফর্মের ভিত্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদনের মতো উদ্যোগ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এশিয়া-প্যাসিফিক, পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিন্দূর’-এ ব্রহ্মসের দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: দি ইকোনমিক টাইমস।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড