নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের চিহ্নিত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। আবার তারাই নানা ধরনের খোঁটা দেয়। আমাদের বিরুদ্ধে জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগও তোলা হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘এই সমাবেশে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী বন্ধুদের সঙ্গে কিছু সময় বসেছিলাম। তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। চোখের ভাষায় সেই উদ্বেগ স্পষ্ট ছিল, যদিও তারা মুখ খুলতে চাইছিলেন না। পরে একজন নীরবতা ভেঙে বললেন— আমরা ভালো নেই, চাঁদাবাজরা ভালো থাকতে দিচ্ছে না।’
চাঁদাবাজদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী জানেন এই চাঁদাবাজরা কোন দলের। একদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়, অন্যদিকে ঘরে ঘরে চাঁদাবাজদের লেলিয়ে দেওয়া হয়।’
জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রির’ অভিযোগের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি কোথাও জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন? আপনাদের কাছে কি কেউ এমন টিকিট বিক্রি করেছে? কেউ করেনি। বরং নির্বাচনের সময় যারা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে বলে প্রচার করেছে কিংবা কোনো নেতার নাম জপ করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার কথা বলেছে, তাদের বক্তব্যের ভিডিও এখনো মানুষের মনে আছে।’
জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মো. আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
সম্মেলনের শেষে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২৭টি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।