ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আনুষ্ঠানিক পাঠ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। দীর্ঘ সময় ধরে নথিটি গোপন রাখার পর বুধবার (১৭ জুন) এটি প্রকাশ করা হয়। সমঝোতার বিষয়বস্তু জনসমক্ষে না আনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও দেখা দিয়েছিল।
মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নথিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে কয়েকটি অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ।
‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ শিরোনামের এ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী শুক্রবার চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই পক্ষের জন্য ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব নির্ধারণ করা হবে।
সমঝোতার বিভিন্ন ধারায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান, পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতির বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে এ অঞ্চলের নৌ-ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চালানোর কথাও বলা হয়েছে
অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনরায় জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হবে এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনায় দুই পক্ষের আন্তরিকতা, আস্থা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর।
সূত্র: সিএনএন