প্রথমার্ধে সেনেগালের গোছালো ফুটবলের সামনে বেশ চাপে ছিল ফ্রান্স। বল দখল ও আক্রমণে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না দিদিয়ের দেশমের দল। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কিলিয়ান এমবাপে ও মাইকেল ওলিসের নেতৃত্বে আক্রমণ গুছিয়ে নিয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে ফ্রান্স।
নিউ জার্সিতে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। দলের জয়ে জোড়া গোল করেন এমবাপে। বদলি হিসেবে নেমে আরেকটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
এই দুই গোলের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এমবাপে। এত দিন ১৩৭ ম্যাচে ৫৭ গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিলেন অলিভিয়ের জিরু। মাত্র ৯১ ম্যাচেই তাকে ছাড়িয়ে গেলেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপে।
শুধু জাতীয় দলের গোলের রেকর্ডই নয়, বিশ্বকাপের গোল তালিকাতেও বড় লাফ দিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই লিওনেল মেসির ১৩ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এমবাপের সামনে এখন আছেন কেবল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজা ও ব্রাজিলের রোনালদো। ক্লোজার গোল ১৬টি, রোনালদোর ১৫টি। আর এমবাপের সমান ১৪ গোল আছে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা মানসিক চাপ সামলে দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাতে এমবাপের নেতৃত্বও আবার সামনে এসেছে। গোলের পাশাপাশি আক্রমণভাগে তার গতিময় উপস্থিতি সেনেগাল রক্ষণকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন পারফরম্যান্স ফ্রান্সের জন্য বড় স্বস্তির খবর। আর এমবাপের জন্য এটি হয়ে থাকল এক স্মরণীয় রাত, যেখানে দলকে জেতানোর পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ডও নিজের করে নিলেন তিনি।