ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla Lead

ইরান চুক্তিতে ইসরায়েলে ক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছে ইসরাইলপন্থীরা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬

ইরান চুক্তিতে ইসরায়েলে ক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছে ইসরাইলপন্থীরা

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরপরই ইসরাইলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নন।

রোববার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।


শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘিরাবাবাদি জানান, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তবে এই ঘোষণার পর থেকেই ইসরাইলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, তারা এই সমঝোতার শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে একাধিক সামরিক অভিযানও চালায় ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, ইসরাইল এই চুক্তির আওতায় বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না এবং লেবানন-সংক্রান্ত কোনো শর্তও তারা মেনে নেবে না।


প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় স্থাপিত ইসরাইলের ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রয়োজন হলে সেখানে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সেনা মোতায়েন থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ইসরাইলের আপত্তি ও আঞ্চলিক বাস্তবতা ভবিষ্যতে এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

Bangla Lead

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


ইরান চুক্তিতে ইসরায়েলে ক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছে ইসরাইলপন্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরপরই ইসরাইলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নন।

রোববার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।


শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘিরাবাবাদি জানান, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তবে এই ঘোষণার পর থেকেই ইসরাইলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, তারা এই সমঝোতার শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে একাধিক সামরিক অভিযানও চালায় ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, ইসরাইল এই চুক্তির আওতায় বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না এবং লেবানন-সংক্রান্ত কোনো শর্তও তারা মেনে নেবে না।


প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় স্থাপিত ইসরাইলের ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রয়োজন হলে সেখানে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সেনা মোতায়েন থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ইসরাইলের আপত্তি ও আঞ্চলিক বাস্তবতা ভবিষ্যতে এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড