গাফ্ফারের চোখে স্পেন আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ইংল্যান্ডের শিরোপার লড়াই ও পর্তুগালের সম্ভাবনা
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলবিশ্বে চলছে সম্ভাবনার হিসাব-নিকাশ। কে হবে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার, কোন দল চমক দেখাতে পারে, আর কারা হতে পারে নীরব ঘাতক এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল গাফ্ফারের দৃষ্টিতে শিরোপার লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। তবে তার মতে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগালের আবেগ ও ঐক্যও বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
‘বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে শুধু নাম বা ইতিহাস দিয়ে কিছু হয় না। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কে কতটা প্রস্তুত, আর চাপের মুহূর্তে কে নিজের সেরাটা দিতে পারে। আমার চোখে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দল স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।[TECHTARANGA-POST:97]
স্পেনকে আমি অনেক এগিয়ে রাখছি। তাদের বর্তমান দলটিতে তরুণদের ক্ষুধা আছে, প্রতিভা আছে, আবার আধুনিক ফুটবলের সব উপাদানও আছে। পেদ্রি, গাভি, লামিন ইয়ামালদের মতো তরুণরা দলটিকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে তারা আরও সংগঠিত এবং পরিকল্পনামাফিক ফুটবল খেলছে। তারা বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, দ্রুত আক্রমণে যেতে পারে এবং দল হিসেবে খেলতে জানে।
আর্জেন্টিনা তো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তারা জানে কীভাবে বড় টুর্নামেন্ট জিততে হয়। লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে দলটি এখন এক অসাধারণ ইউনিট। লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো খেলোয়াড়রা দলকে ভারসাম্য দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য এবং জয়ের মানসিকতা।
ফ্রান্সকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দিদিয়ের দেশমের অভিজ্ঞ নেতৃত্বে দলটি প্রতিটি বিভাগে বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে ভরপুর। কিলিয়ান এমবাপ্পে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্দে ও উসমান দেম্বেলের মতো খেলোয়াড়রা ফ্রান্সকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। অভিজ্ঞতা, শক্তি, গতি এবং গভীরতা—সব মিলিয়ে তারা যেকোনো সময় টুর্নামেন্ট জয়ের সামর্থ্য রাখে।
ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রজন্মও অসাধারণ। গ্যারেথ সাউথগেটের (বা পরবর্তী কোচের) পরিকল্পনায় জুড বেলিংহ্যাম, ফিল ফোডেন, বুকায়ো সাকা, হ্যারি কেইন, জন স্টোনস ও ডেকলান রাইসের মতো খেলোয়াড়রা দলটিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। এরা সবাই ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। যদি তারা মানসিক চাপ সামলাতে পারে, তাহলে অনেক দূর যেতে পারবে।
অনেকে ব্রাজিলকে শিরোপার দৌড়ে রাখে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত তালিকায় ব্রাজিল নেই। নেইমার-পরবর্তী সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া ও ব্রুনো গিমারাইসদের মতো প্রতিভা থাকলেও তারা এখনও দল হিসেবে পুরোপুরি স্থিরতা খুঁজে পায়নি। তাই আমি এই মুহূর্তে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকেই বেশি এগিয়ে রাখি।
তবে আলাদাভাবে পর্তুগালের কথা বলতে চাই। পর্তুগালকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, দিয়োগো জোটা ও রুবেন দিয়াসদের মতো খেলোয়াড়রা এক অসাধারণ ভারসাম্য তৈরি করেছে। রোনালদোকে ঘিরে দলে এক ধরনের আবেগ ও ঐক্য কাজ করে। আর্জেন্টিনা যেমন মেসিকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপ জিতেছিল, তেমনি পর্তুগালের খেলোয়াড়রাও রোনালদোর জন্য একই স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামে।
রোনালদো শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি পর্তুগালের ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক। তার জন্য সতীর্থরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে চায়। সেই আবেগ অনেক সময় দলকে আলাদা শক্তি দেয়। তাই আমার মতে, শিরোপার দৌড়ের বাইরেও পর্তুগাল এমন একটি দল, যারা সুযোগ পেলে ইতিহাস গড়ে ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের সৌন্দর্যই এখানেই। সব হিসাব সবসময় মেলে না। কখনও আবেগ, কখনও ঐক্য, কখনও বিশ্বাস আর একটি স্বপ্নই ট্রফির পথ বদলে দেয়। তাই আমি মনে করি, ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় কিছু করার সামর্থ্য পর্তুগালেরও রয়েছে।’